বাংলা সাজেশন || সিরাজদ্দৌলা থেকে সাজেশন || উত্তর সহ সাজেশন || মাধ্যমিক ২০২২
সিরাজদ্দৌলা সাজেশন
সিরাজদ্দৌলা : রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : | প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
1. সিরাজদ্দৌলা নাটকে সিরাজদ্দৌলার চরিত্র আলােচনা কর।
উত্তর : ভূমিকা : ষড়যন্ত্র, সন্দেহ, ঈর্ষা আর গােপন চক্রান্তের র পথ অতিবাহিত হয়েছিল বাংলার তরুণ নবাব সিরাজদ্দৌলার প্রতিটি দিক। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের সিরাজদ্দৌলা নামাঙ্কিত নাট্যাংশ অবলম্বনে তার চরিত্রের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল—
(ক) রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব : সিরাজদ্দৌলার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব ছিল। মিরজাফর, রাজদুর্লভ, জগৎ শেঠ প্রমুখ ব্যক্তিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। মিরজাফরের ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও তার প্রতি কঠোর হতে পারেননি।
(খ) বিষন্নতার ছায়া : চারদিকে ষড়যন্ত্র, সন্দেহ ও সমালােচনার ঘূর্ণাবর্তের পরে অসহায় বােধ করেছিলেন সিরাজ। সবসময় এক উৎকণ্ঠা তাকে রাহুর মতাে তাড়া করত।
(গ) পরিস্থিতির স্বীকার :নবীন নবাব রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তের আবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছিলেন। সিরাজের দুর্বলতার সুযােগ নিয়ে ইংরেজরা তার বিরুদ্ধে একটি প্রধান শক্তিকে সংঘবদ্ধ করেছিলেন। যার ফলে ঘরে বাইরে সব জায়গায় অশান্তির আগ্নেয়গিরি ধ্বংসের রূপ ধারণ করে।
(ঘ) খাঁটি দেশপ্রেমিক : সিরাজ খাঁটি দেশপ্রেমিক। জন্মভূমি ভয়ংকর সর্বনাশের মুখের পতিত হতে চলেছে। এই সত্য জেনে তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন বাংলার দুর্দিন উপস্থিত। তাই মিরজাফরকে জানিয়েছিলেন “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।
(ঙ) মূল্যায়ন : আদর্শের বলিষ্ঠতা আর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সিরাজদ্দৌল্লার চরিত্রটি।
2. ‘কী অনাচার আমি করেছি’ অথবা, “বলুন কটা রাত আমি নিশ্চিন্তে কাটিয়েছি”
অথবা,
কটা দিন আপনারা আমাকে বিশ্রামের অবসর দিয়েছেন”– কে, কাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছে, একথা বলার কারণ কী?
উত্তর : বক্তা-শ্রোতা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত সিরাজদৌল্লা নামাঙ্কিত নাট্যাংশ থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নবাব সিরাজদ্দৌল্লা রাজবল্লভকে উদ্দেশ্যে করে একথা বলেছেন।
এ কথার কারণ : শচীন্দ্রনাথ তার নাটকে রাজবল্লভকে ষড়যন্ত্রকারী রূপে দেখিয়েছিলেন। পলাশির ষড়যন্ত্রে রাজবল্লভের প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকলেও তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করেছিলেন। রাজবল্লভ নবাবের কথার পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছিলেন—“আমরা কেউ মিথ্যা কলঙ্ক রটাইনি।” রাজবাভ অবশ্য নবাবের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতন। তিনি নবাবকে লক্ষ করে বলেছেন—“পাপ কখনও চাপা থাকে না। আসলে এই কথা বলে রাজবল্লভ নিজের পাপকে ঢাকতে চেয়েছিলেন। বলাবাহুল্য রাজবল্লভ একইসঙ্গে ঘসেটি বেগম ও ইংরেজদের সাথে যােগাযােগ করে নবাবের সর্বনাশ সাধনে উগ্রীব হয়েছেন। আসলে রাজবল্লভ ছিলেন সুযােগ সন্ধানী ও অসৎ প্রকৃতির মানুষ। তাই তিনি ইংরেজদের পক্ষে নবাবের কাছে সওয়াল করেন। তিনি জানান—“নবাব যেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সমস্ত বিরােধ মিটিয়ে নেয়।”
বাংলার এই দুর্দিনে নবাব যেন শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়। রাজবল্লভের বক্তব্য আসলে ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির গােপন প্রয়াস। তাদের জন্য নবাবের সর্বনাশ হয়েছিল। নবাবের বক্তব্য তার এই প্রমাণ।
3. নবাব সিরাজদ্দৌলা ওয়াটস্ কে বন্দি করেন কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে কী শাস্তি দেওয়া হয় ?
উত্তর : ওয়াটসকে বন্দি করার কারণ : পাঠ্য নাট্যাংশে সিরাজদৌল্লা কাশিম বাজার কুঠি আক্রমণ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে বন্দি করেন। কারণ রাজদরবারে কোম্পানি প্রতিনিধি হয়েও ওয়াটস্ আলিনগরের সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন। ইংরেজদের বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসিদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করার ইচ্ছে ছিল ওয়াটসের। তিনি চেয়েছিলেন ফরাসিদের চন্দননগরের ঘাঁটি আক্রমণ করতে এছাড়াও একটি চিঠিতে লিখেছিলেন। কলকাতায় অধিক সৈন্য সমাবেশ করে বাংলার বুকে এমন আগুন ইংরেজরা জ্বালাবেন যা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নেভানাে যাবে না। এসব ছিল ওয়াটসের কাজ। তাই ওয়াটকে নবাব বন্দি করেছিলেন।
শাস্তি : ওয়াটসকে বন্দি করে তােপের মুখে উড়িয়ে দেওয়ার ভর দেখালেও বাস্তবে নরম হৃদয়ের সিরাজদৌল্লা কোনােরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। শুধুমাত্র রাজদরবার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
উপরিউক্ত সাজেশন গুলি এবছর এর বাতিল করা সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্যার ম্যাম দের সহায়তা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে আশা করব তোমাদের সাহায্য করবে।
