বাংলা সাজেশন || সিন্ধুতীরে থেকে সাজেশন || উত্তর সহ সাজেশন || মাধ্যমিক ২০২২
সিন্ধুতীরে সাজেশন
সিন্ধুতীরে : বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : (প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
1. পদ্মাবতী যার শাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়েছিলেন বলে পদ্মা অনুমান করেছিলেন–
[A] জরাকারু মুনি [B] অগ্নিদেব [C] ব্যাসদেব [D]দেবরাজ ইন্দ্র
Answer : [D]দেবরাজ ইন্দ্র
2. ‘পদ্মাবতী কাব্যের যে কাব্যের অনুবাদ, সেটি হল–
[A] সেকেন্দারনামা [B] তােহফা [C] পদুমাবৎ। [D] হপ্তপয়কর
Answer : [C] পদুমাবৎ।
3. ‘সিন্ধুপারে’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন-
[A]সৈয়দ আলাওল। [B] সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ [c] জসীমউদ্দিন [D] কাজী নজরুল ইসলাম
Answer : [A]সৈয়দ আলাওল
4. ইন্দ্রশাপে বিদ্যাধরি বিদ্যাধরী হলেন—
[A] ইন্দ্রের স্ত্রী [B] স্বর্গের গায়িকা অপ্সরী [C] দেবীলক্ষ্মী [D] দেবী সরস্বতী
Answer : [B] স্বর্গের গায়িকা অপ্সরী
5. সৈয়দ আলাওল যে সময়কার কবি তা হল-
[A] পঞ্চদশ শতক [B] যােডােশ শতক [C] অষ্টাদশ শতক [D] সপ্তদশ শতক
Answer : [D] সপ্তদশ শতক
6. “অতি মনােহর দেশ’ বলতে বােঝানাে হয়েছে যে দেশকে
[A] সিংহলকে [B] রেঙ্গুনকে [c] সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে [D] সুন্দরবনের উপকূলভাগকে
Answer : [A] সিংহলকে
7. “ভাঙ্গিল প্রবল বাও”–‘বাও’ শব্দের অর্থ-
[A] বায়ু [B] বজ্র [C] সমুদ্রস্রোত [D] নদীর বান
Answer : [A] বায়ু
8. “নিপতিতা চেতন রহিত”—পদ্মাবতী চেতনা হারিয়েছে যে কারণে
[A] সমুদ্রের ঝড়-ঝক্ষ্মায় [B] প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামিতে [C] গভীর বনের দাবানলে | [D] স্বামীর জন্য দুশ্চিন্তায়
Answer : [A] সমুদ্রের ঝড়-ঝক্ষ্মায়
9. “মনেতে কৌতুক বাসি…”পদ্মার মনে কৌতূহল জাগার কারণ—
[A] তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাস দেখতে পেয়েছিলেন। [B] তিনি সমুদ্রতীরে পশুদের আওয়াজ শুনেছিল । [C] তিনি সমুদ্রতীরে পাখিদের কলরব শুনেছিলেন। [D] তিনি সমুদ্রতীরে একটি পর্বত লক্ষ করেছিলেন।
Answer : [A] তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাস দেখতে পেয়েছিলেন।
সিন্ধুতীরে : অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
1. পদ্মাবতী কাব্যে সিংহল রাজ্যকন্যা পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম কী ছিল?
Answer : পদ্মাবতী কাব্যে সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম ছিল হীরামন।
2. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে কাকে বােঝানাে হয়েছে?
Answer : ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রনৃপতি’ অর্থাৎ সমুদ্ররাজার ‘সু’ অর্থাৎ কন্যা বলতে এখানে পদ্মা নামক গুণবতীকে বােঝানাে হয়েছে। যদিও জায়সীর মূল গ্রন্থে এর নাম লক্ষ্মী।
3. “কন্যারে ফেলিল যথা”—‘কন্যা’টি কে?
Answer : কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘পদ্মাসমুদ্র’ খণ্ড থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে পাঠাংশের কন্যাটি হলেন পদ্মাবতী, সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা, চিতােররাজ রত্ন সেনের দ্বিতীয়া মহীয়সী।।
4. পঞ্চকন্যা কারা, তাদের চিকিৎসা চলে কতক্ষণ?
Answer : কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় পঞ্চকন্যা হলেন রাজবধু পদ্মাবতী ও তার চারসখী—চন্দ্রকলা, বিজয়া, রােহিণী ও বিধুন্নলা। তাদের চিকিৎসা চলে। চার ঘন্টা ধরে।
5. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ”—কার কোথায় থাকার কথা বলা হয়েছে?
Answer : ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্র রাজকন্যা পদ্মার পাহাড়ের পাশে ফুল-ফলে ভরা। বিচিত্র প্রাসাদময় এক বাগানে থাকার কথা বলা হয়েছে।
6. “বেথানিতে হৈছে কেশ বেশ।”—পঙক্তিটির অর্থ কী?
Answer : সামুদ্রিক দুর্যোগে পবতী চেতনা রহিত হয়েছিলেন। প্রবল দুর্যোগে তার বেশ-বাস বা পােশাক-আসাক ‘বেথানিত বা অসংবৃত, এলােমেলাে হয়ে গিয়েছিল।
7. রাজা রত্নসেন কার মুখে পদ্মবতীর রূপের কথা শুনেছিলেন ?
Answer : চিতােরের রাজা রুদ্রসেন পদ্মাবতীর রূপের কথা শােনেন এক শুকপাখির মুখে।
সিন্ধুতীরে : সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. পদ্মা কে? সে কীরূপ উদ্যান রচনা করেছিল?
Answer : পদ্মা : আলাগার রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যে সিন্ধুতীরে কবিতায় পদ্মা হলেন সমুদ্রের রাজার গুণবতী কন্যা।
উদ্যানের পরিচয় :সমুদ্রতীরে এক সুন্দর স্থানে যেখানে ফল ও ফুলের প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ এক পর্বত রয়েছে, তার পাশে পদ্মা একটি সুন্দর উদ্যান রচনা করেছিল। নানাবিধ সুগন্ধি পুষ্প ও ফল এবং সুলক্ষণ যুক্ত বৃক্ষ তার শােভা বর্ধন করত। তার মধ্যে স্বর্ণখচিত প্রাসাদে পদ্মা বাস করতেন।
2. ‘পঞ্চকন্যা পাইল চেতন’–পকন্যা কিভাবে চেতন পেয়েছিল?
Answer : পঞ্চকন্যার চেতনাপ্রাপ্তি : সমুদ্রকন্যা পদ্মা প্রথমে বিধাতার কাছে পদ্মাবতীর জন্য প্রার্থনা করেন। তারপর তিনি উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পদ্মার আদেশে তার সখীরা অচেতন পদ্মাবতী ও তার সখীদের দেহ কাপড়ে ঢেকে উদ্যানের মধ্যে নিয়ে যান। তারপর তন্ত্রমন্ত্ৰ মহাঔষধের দ্বারা তাদের মাথায় এবং পায়ে আগুনের সেক দেওয়া হয়। এইভাবে চারদণ্ড চিকিৎসা করার পর চার সখীসহ পদ্মাবতী জ্ঞান ফিরে পায়।
3. ‘দেখিয়া রূপের কলা/বিস্মিত হইল বালা/অনুমান করে নিজ চিতে।’—কে নিজের চিত্তে কার রূপের কলা কখন অনুধাবন করেছিলেন?
Answer : পদ্মাবতীর অপরূপ রূপ : ব্রাত্মণরূপী সমুদ্রের বুদ্রতাপে সিংহল থেকে চিতরে ফেরার সময় রত্নাসেন ও প্রিয়দর্শিনী পত্নী পদ্মাবতী জীবন সংশয়ের মুখে পড়েন। পদ্মাবতী সিন্ধু তীরে অত্যন্ত বেদনাহত হয়ে সাহীন হয়ে পড়েন। সমুদ্র তীরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন সমুদ্রকন্যা পদ্ম। তার অর্থাৎ পদ্মাবতীর রূপ লাবণ্য দেখে সমুদ্রকন্যা অবাক হয়ে যায়।
সিন্ধুতীরে : রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
1. সিন্ধুতীরে কবিতায় দিব্যস্থানটির পরিচয় দাও?
Answer : ভূমিকা : সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতী কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা যেখানে থাকতেন সেই স্থানটি ছিল দিব্যস্থান। অনুপম বর্ণনায় সেই স্থানের পরিচয় দিয়েছেন কবি সৈয়দ আলাওল।
দিব্যস্থানের পরিচয় : পদ্মাবতী কাব্যে সৈয়দ আলাওল সিন্ধু তীরের বর্ণনায় ঐশ্বর্য বিলাসময় বাংলাদেশের দৃশ্যকে তুলে ধরেছেন, পদ্মা সমুদ্রকন্যা অনুসারে। সিন্ধু তীরে কবিতায় অচৈতন্য পদ্মাবতীর পড়ে থাকা অবস্থায় সেই স্থানটির অপরুপ বর্ণনা দিয়েছে। অতি মনােহর দেশ, সেখানে দুঃখ, কষ্ট কিছু নেই সর্বদা সত্য ধর্ম বিরাজমান। আহত এবং সঙ্গাহীন পদ্মাবতীকে যে স্থান থেকে সমুদ্রকন্যা। পরা উদ্ধার করে সেই স্থানে সমুদ্র মধ্যবর্তী অঞ্চলে এক দিব্য ক্রান্তি, সুন্দর। প্রাসাদের অবস্থান এবং এক পার্বত্য প্রদেশের কোলে সুন্দর উদ্যানের অবস্থিতি লক্ষ্য করা যায়- উপরে পর্বত এক ফল ফুলে অচিরেক তার পাশে রচিল উদ্যান।
এই স্থানটিকে দিব্যন রুপে কবি অঙ্কন করেছেন। কারণ উদ্যানটি নানা ফল, ফুল, বৃক্ষ ও লতাগুল্মে পরিপূর্ণ। এছাড়া সেই উদ্যানে সুগন্ধি মনােহর ফুল এবং সুলক্ষণ যুক্ত বৃক্ষ রয়েছে এবং বাগানের পাশে স্বর্ণখচিত এক সুন্দর প্রাসাদ রয়েছে। যেখানে সমুদ্রকন্যা সর্বদা অবস্থান করে। কবির কল্পনায় এটি দিব্যপুরী।
মূল্যায়ন : মধ্যযুগের কবি সৈয়দ আলাওল অপুর্ব বর্ণনায় এই বাগানের এবং প্রাসাদের পরিচয় দিয়েছেন যা কল্পনার অতীত। তাই কবির ভাষায় মনােহর রূপ ধারণ করেছে।
2. সমুদ্র তীরে কবিতায় পদ্মার চরিত্রটি আলােচনা করাে।
Answer : ভূমিকা : সিন্ধু তীরে কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মার চরিত্রটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কবির বর্ণনায় পদ্মার নানান গুণ দেখতে পাওয়া যায়।
পদ্মা চরিত্রের পরিচয় : সমুদ্রের মাঝে এক দিব্যপুরী। যে দিব্যপুরীটি স্বর্গীয় বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল। সেখানেই বাস করেন সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মা। একদিন ভােরবেলায় সখীসহ উদ্যানে পরিভ্রমণ করতে এসে তিনি সমুদ্রতীরে একটু ভেলা দেখে অবাক হন। এই ভেলায় ছিলেন শৃঙ্খল রাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তার চার সখী। এরা সকলেই অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পদ্মা বিচলিত হয়ে ওঠেন। তারপর সখীদের নির্দশ দেন তাদের উদ্যানের মধ্যে নিয়ে আসতে। শুভমমী পদ্মা। অপরিচিত এই নারীদের বিপদাপন্য অবস্থা দেখে কষ্ট পান এবং খুব তাড়াতাড়ি তাদের সেবাযত্নের ব্যবস্থা করেন। এখানে পদ্মার যেনসিক্ত ও দরদি হৃদয়ের পরিচয়টি বড়াে হয়ে উঠেছে। রাজকন্যা হলেও পদ্মার মনে কোনাে অহংকার নেই। অসহায়কে সেবা করাই তার ধর্ম। অপরিচিত হলেও পদ্মাবতী ও তার সখীদের যেভাবে তিনি জ্ঞান ফিরিয়ে এনেছেন তাতে তার চরিত্রের মহৎ দিক ধরা পড়েছে। এমন মহানুভব মানব চরিত্র মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বিরল।
মূল্যায়ন : প্রকৃতপক্ষে সমুদ্র কন্যার জন্য জীবন ফিরে পেয়েছে পদ্মাবতী ও তার চার সখী। তাই সমুদ্রসুতাপদ্মা মানবীক গুণে পরিপূর্ণ এক অসামান্য নারী, একথা আমরা বলতেই পারি।
উপরিউক্ত সাজেশন গুলি এবছর এর বাতিল করা সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্যার ম্যাম দের সহায়তা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে আশা করব তোমাদের সাহায্য করবে।
